1. info@www.skytvnews24.com : Sky TV News 24 :
বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৪:৪৭ অপরাহ্ন

মধ্যরাত থেকে ভোলার মেঘনা ও তেতুলিয়া নদীতে শুরু হয়েছে ২২ দিনের অভিযান

প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত: বুধবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৩
  • ১১৭ বার পড়া হয়েছে

এইচ এম জাকিরঃ মধ্য রাত থেকে শুরু হচ্ছে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা। ইলিশের প্রজনন বৃদ্ধি ও মা ইলিশ রক্ষায় ভোলার মেঘনা ও তেতুলিয় নদী সহ দেশের বিভিন্ন নদ-নদীর অভয়াশ্রম গুলোতে সকল ধরনের জাল ফেলা ও মাছ ধরার সম্পুর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সরকার। ১২ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত টানা ২২ দিন চলবে এ অভিযান।
মেঘনা ও তেতুলিয়া নদীর ১শ ৯০ কিলোমিটার এলাকা অর্থাৎ ভোলার ভেদুরিয়া থেকে পটুয়াখালীর চররুস্তম পর্যন্ত তেঁতুলিয়া নদীর ১০০ কিলোমিটার ও ভোলার ইলিশা থেকে মনপুরার চরপিয়াল পর্যন্ত মেঘনা নদীর ৯০ কিলোমিটার এলাকায় সকল ধরনের জাল ফেলা মাছ ধরা বন্ধ রাখার জন্য নির্দেষ প্রদান করা হয়েছে। এই সময় মা ইলিশ ডিম ছাড়তে সাগরের লোনা পানি থেকে মিঠা পানির সন্ধানে নদীর অভয়াশ্রম গুলোতে চলে আসে। তাই এ সময় নদীর অভয়াশ্রম গুলোতে সকল ধরনের জাল ফেলা, মাছ ধরার উপর নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি মাছ মজুদ, বাজারজাত করনের প্রতি সম্পুর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞা অমান্য কারীর বিরুদ্ধে মৎস্য আইনে ছয় মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত কারাদন্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি ব্যবস্থা রয়েছে। অভিযান সফল করতে জেলার মৎস্য বিভাগ, পুলিশ, কোস্টগার্ড ও জেলা প্রশাসন এক যোগে মাঠে কাজ করবে।

এদিকে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও টানা ২২ দিনের অভিযান শুরু হলেও জেলেদের পুনর্বাসনের হয়নি কোন ব্যবস্থা। তাই ২২ দিনের এই দীর্ঘ সময়টিতে এ সকল জেলে এবং মৎস্য ব্যবসায়ীরা কি করবে এ নিয়ে তাদের মাঝে নেমে এসেছে চরম হতাশা। যদিও নিষেধাজ্ঞার এই সময়কে ঘিরে সরকারের পক্ষ থেকে বিজিএফ এর আওতায় জেলেদের জন্য ২৫ কেজি করে চাল বরাদ্ধ দেয়ার কথা থাকলেও গেলো বছরের মতো এবারও অভিযানের শেষের দিকে এ চাল পাওয়ার শঙ্কায় করছেন জেলেরা।

তারা বলছেন, গেলো ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিলপর্যন্ত জাটকা ইলিশ সংরক্ষনে দুই মাসের নিষেধাজ্ঞার সময় কোন জেলেই নদীতে মাছ ধরতে পারেনি। টানা দুই মাস বেকার জীবনে কোন ভাবে দার-দেনা করে কাটিয়েন তারা। নিশেধাজ্ঞার সময় শেষ হতেই দেখা দিয়েছে নদী গুলোতে ইলিশের শূন্যতা। দীর্ঘ দিন অপেক্ষা করেও নদীতে আশানোরূপ ইলিশ না পাওয়ায় জেলে এবং মৎস্য ব্যবসায়ীদের মাঝে দেখা দিয়েছে চরম হতাশা। এমনকি বর্তমানে ইলিশের ভরা মৌসুমের দুই মাসেও জেলেরা কাঙ্কিত ইলিশ না পাওয়ায় অনেকটা লোকসানের মধ্যেই চলেছে তাদের জীবন যাপন। সম্প্রতি নদীতে ইলিশের পরিমান কিছুটা বৃদ্ধি পেতেই আবার শরু হয়েছে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা। যখনই তারা নদী থেকে কাঙ্কিত ইলিশ আহরন করে পিছনের দার-দেনা কাটিয়ে হাসিমূখে বাচার স্বপ্ন দেখছেন। ঠিক সেই মুহুর্তেই শুরু হয়েছে টানা ২২ দিনের অভিযান। তাই বর্তমানের অভিযানটি জেলেদের জন্য অনেকটা কষ্টসাধ্য হয়েছে বলে মনে করছেন জেলেরা।

দৌলতখানের চৌকিদারঘাট এলাকার নিরব মাঝি, ফারুক মাঝি, আমির হোসেনমাঝিসহ অশংখ্য মাঝি মাল্লারা বলেন, সরকার অভিযান দেয় কিন্তু এই সময়টিতে গরীব অসহায় জেলেরা কি করবে তার কোন ব্যবস্থা করে না। বহু জেলে রয়েছে একদিন নদীতে না গেলে ঘরে চুলো জ্বলবে না। আর ২২টি দিন এ সকল জেলেরা কোন পেশায় দিন কাটাবে। তজুমদ্দিন উপজেলার চর জহিরউদ্দিনের এলাকার আবুল হোসেন মাঝি, করিম মাঝি, হারুন মাঝিসহ আরো অনেক মাঝিরা বলেন, গেলো দুই মাসের জাটকা ইলিশের অভিযানের সময়ও দেখা গেছে আমারা একবেলা খেলে দুই বেলা না খেয়ে কাটিয়েছি। প্রশাসন বা সরকারের পক্ষ থেকে কেউই আমাদের কোন খোজ খবর নিতে আসেনি। এমনকি অভিযান শেষ হওয়ারও সপ্তাহ খানেক পর চাল দেয়া হয় তাও আবার মাত্র ২৫ কেজি করে। সেখানেও পরিমানে কম দেয়ার ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে।

দৌলতখানের বিশিষ্ট মাছ ব্যবসায়ী আবদুল হাই বলেন, অভিযান শুরুতে জেলেরা যদি তাদের পুনর্বাসনের চালটাও ঠিক মতো পেতো তাহলে হয়তো কোন জেলেই নদীতেযাওয়ার চিন্তা করতো না। কিন্তু সরকার তা না করে অভিযান শেষ হওয়ারও অনেক দিন পর চাল দেয়। এমনকি সেই চালও ঠিক ভাবে পায় না জেলেরা।

দেখা গেছে, গেলো মার্চ এপ্রিল এ দুই মাস জাটকা সংরক্ষনের অভিযান শেষ হওয়ার প্রায় এক মাস পর জেলেদেরকে তাদের পুনর্বাসনের চাল দেয়া হয়েছে। এমনকি চার মাসে জেলে প্রতি ৪০ কেজি করে ১৬০ কেজি চাল পাওয়ার কথা থাকলেও সেখানে জেলে প্রতি চাল দেয়া হয়েছে মাত্র ৬০ থেকে ৬৫ কেজি চাল। এনিয়ে জেলেদের পক্ষ থেকে অভিযোগের যেন অন্ত নেই।

তবে চাল বিতরনে কোন প্রকার অনিয়ম হয়নি এমনটি দাবী করে ভোলা সদর ও দৌলতখান উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মাহফুজ হাছনাইন বলেন, ভোলায় নিবন্ধনকৃত জেলে রয়েছে প্রায় ১ লাখ ৫৩ হাজার। সে হিসেবেই জেলেদের জন্য বরাদ্ধকৃত চাল তাদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। যদিও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি অর্থাৎ ইউপি চেয়ারম্যান মেম্বারদের বিরুদ্ধে চাল বিতরনে অনিয়মের অভিযোগ পেলেও অধিকাংশ স্থানেই সুন্দরভাবে চাল বিতরন করা হয়েছে। আমরা আশা করছি এবারও পুর্বের ন্যায় ভালো ভাবেই জেলেদের পুনর্বাসনের চাল বিতরণ করাতে আমরা সক্ষম হবো আশা করছি।

তবে নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আরফুজ্জামান বলেন, একটি মা ইলিশ রক্ষা করার মানেই হচ্ছে আগামী দিনের কয়েক হাজার ইলিশ বৃদ্ধি পাওয়া। তাই ক্ষনিকের স্বার্থের জন্য ভবিষ্যত অন্ধকার না করে মা ইলিশ রক্ষায় সকলকেই এক যোগে কাজ করা আহবান জানান তিনি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯  

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

প্রযুক্তি সহায়তায়: বাংলাদেশ হোস্টিং
error: Content is protected !!