1. info@www.skytvnews24.com : Sky TV News 24 :
মঙ্গলবার, ০৫ মার্চ ২০২৪, ০৮:৫৯ পূর্বাহ্ন

ভোলায় ভিটামিন এ প্লাস টিকা খাওয়ানো থেকে বঞ্চিত চরের হাজারো শিশু

প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২৩
  • ১১৬ বার পড়া হয়েছে
স্টাফ রিপোর্টারঃ ভোলায়  জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল টিকা খাওয়ানো থেকে বঞ্চিত হয়েছে বিভিন্ন চরাঞ্চলে বসবাসকারী সহস্রাধিক শিশু। কর্তৃপক্ষের ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায়িত্বে অবহেলা ও উদাসীনতাকে দায়ি করছেন স্থানীয় চরের বাসিন্দারা।
এলাকার জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয়দের  অভিযোগে জানা যায়, ১২ ডিসেম্বর সারা দেশের ন্যায় ভোলা জেলায় ১০টি স্থায়ী কেন্দ্রসহ মোট ১৬৯০টি কেন্দ্রে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভিটামিন “এ” প্লাস ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিটি কেন্দ্রে দুই জনস্বাস্থ্য কর্মীর মাধ্যমে জাতীয় ভিটামিন “এ” প্লাস ক্যাম্পেইন পরিচালিত হওয়ার কথা থাকলেও দ্বীপ জেলার অদূরবর্তী চর সমূহে এ কার্যক্রম যথাযথ বাস্তবায়ন না হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দৌলতখান উপজেলার চর মদনপুর ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের একটিতেও ইপিআই ক্যাম্প বসেনি এমনকি যায়নি  স্বাস্থ্য কর্মীরাও। ফলে ওই চরে থাকা সহস্রাধিক শিশু সরকার ঘোষিত ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। আর এ কারনে কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায়িত্বে অবহেলা ও উদাসীনতাকে দায়ি করছেন স্থানীয় চরের বাসিন্দারা।
ওই ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দা ইব্রাহিম ও মাকছুদ জানায়, চরের কোথায়ও টিকার ক্যাম্প বসেনি এবং কোনো স্বাস্থ্য কর্মীদেরকেও খুঁজে পাওয়া যায়নি।
ওই চরের ৬নং ওয়ার্ডের “স্বচ্ছ” শিক্ষালয়ের শিক্ষিকা জান্নাত বেগম ও স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক মোঃ নিরব জানায়, আজ শিশুদেরকে ভিটামিন-এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর নির্ধারিত তারিখ থাকলেও এখানে কোনো ক্যাম্প বসেনি এবং স্বাস্থ্য কর্মীরাও আসেনি।
৪নং ও ৬নং ওয়ার্ডের বর্তমান মেম্বার লোকমান মাঝি ও মোঃ আলাউদ্দিন জানান, এখানে অনেক শিশু রয়েছে।  স্বাস্থ্যকর্মীরা না আসায় তারা টিকা খাওয়ানো থেকে বঞ্চিত রয়েছে।
তবে দায়িত্ব অবহেলার স্বীকার করে সেখানকার স্বাস্থ্য সহকারী মোঃ আকবর হোসেন জানান, সকালের দিকেই তিনি টিকা ক্যাপসুল নিয়ে সেই চরে গিয়ে সেখানকার আটটি কেন্দ্রের নিয়োজিত ভলেন্টিয়ারদের হাতে তুলে দিয়ে তিনি সেখান থেকে পুনরায় ভোলা শহরে  চলে আসেন। কিন্তু ভলেন্টিয়াররা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন না করায় এই সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন অধিকাংশ শিশুরা। তাই তিনি বুধবার সকালে সেখানে গিয়ে পুনরায় নিজ দায়িত্বে এই কাজটি সমাপ্ত করবেন বলে জানান তিনি।
দৌলতখান উপজেলার ইপিআই কর্মকর্তা আনিছুর রহমান  বলেন, মদনপুর ইউনিয়নের প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে আমাদের ক্যাম্প রয়েছে। যদি কোনো স্বাস্থ্য কর্মী না গিয়ে থাকে তবে আমি তাদের সাথে যোগাযোগ করে আপনাকে জানাবো।  তিনি আরও বলেন, বাদ পড়া শিশুদের পরবর্তী ৩ দিনেও খাওয়ানো হবে।
ভোলার সিভিল সার্জন ডাঃ
কেএম শফিকুজ্জামান বলেন, এ ধরনের প্রমান পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। পরে তিনি ওই উপজেলার  ইপিআই কর্মকর্তার নাম্বার দিয়ে তার সাথে কথা বলতে বলেন।
উল্লেখ, ১২ ডিসেম্বর  ভোলায় দুই লাখ ৭৬ হাজার ২৭৭জন শিশুকে ভিটামিন “এ” ক্যাপসুল খাওয়ানো কার্যক্রমে ০৬ মাস থেকে ১১ মাস বয়সী ৩২ হাজার ৯৯৭জন শিশুকে এক লাখ ইউনিটের একটি নীল রংয়ের ভিটামিন এ ক্যাপসুল ও ১২-৫৯ মাস বয়সী দুই লাখ ৪৩ হাজার ২৮০জন শিশুকে দুই লাখ ইউনিটের লাল রংয়ের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
যদিও আমাদের অনুসন্ধানে ভোলার বিচ্ছিন্ন একটি চরের স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টি তুলে ধরা হলেও কারোরই বুঝতে বাকি নেই এধরনের আরো ২০টিরও বেশি চর দ্বীপ জেলা ভোলায় রয়েছে। সে সকল চরের শিশুরা কি ধরনের সেবা পেয়েছে তা আর বুঝতে বাকি নেই কারোরই।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

প্রযুক্তি সহায়তায়: বাংলাদেশ হোস্টিং
error: Content is protected !!