1. info@www.skytvnews24.com : Sky TV News 24 :
রবিবার, ১৯ মে ২০২৪, ০২:২৭ অপরাহ্ন

ভোলার ২০ লাখ মানুষের বিনোদনে একটি মাত্র নৌকা রাইড

প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৪
  • ৪৩ বার পড়া হয়েছে

এইচ এম জাকিরঃ ভোলার ২০ লাখ মানুষের বিনোদনের জন্য চলছে একটি মাত্র নৌকা রাইড। জেলা সদর ভোলার সরকারি স্কুল মাঠের বিনোদন কেন্দ্রে স্থাপিত এই নৌকা রাইড ব্যতিরেকে আধুনিক আর কোন ধরনের রাইড না থাকায় প্রতিদিন বিকেল হলেই দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসা বিনোদন প্রিয় মানুষদেরকে পড়তে হয় চরম বিপাকে। অন্য সময় গুলোতে মানুষের উপস্থিতি কিছুটা কম থাকলেও পবিত্র ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা সহ বিভিন্ন বিশেষ দিনে এর সংখ্যা বেড়ে যায় কয়েক গুণ। এতে করে পরিবার পরিজন নিয়ে আসা হাজার হাজার মানুষ রাইডে উঠতে জনপ্রতি ৩০ টাকায় টিকেট কেটে ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকে দীর্ঘ লাইনে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) ঈদের দিনের বিকেলে ভোলা শহরের সরকারি স্কুল মাঠের বিনোদন কেন্দ্রে ভ্রমণপিপাসু মানুষদের উপচে পড়া ভিড়। দেশের বিভিন্ন জেলায় কর্মস্থলে থাকা মানুষগুলো ঈদের ছুটিতে বাড়িতে এসে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে যায় বিভিন্ন দিকে। উল্লেখযোগ্য তেমন কোন পর্যটনকেন্দ্র না থাকায় কেউ কেউ নদীর পারে গেলেও অধিকাংশরাই সমবেত হয় সরকারি স্কুল মাঠের বিনোদন কেন্দ্রে।

কিন্তু এই স্থানটিতে বিনোদনের জন্য কয়েক বছরের পুরনো শিশুদের দুটি স্লিপার ও কয়েকটি স্প্রিং ঘোড়ার পাশাপাশি সম্প্রতি স্থাপিত একটি মাত্র নৌকা রাইড ব্যতিরেকে উল্লেখযোগ্য তেমন কোন ধরনের রাইডের দেখা নেই বিনোদনের এই স্থানটিতে। তাই জনপ্রতি ৩০ টাকায় টিকিট কেটে নৌকা রাইডে উঠতে হাজার হাজার শিশু ও তাদের অভিভাবকরা দাঁড়িয়ে আছে দীর্ঘ লাইনে। চৈত্রের প্রখর গরমে ঘন্টার পর ঘণ্টা এভাবে দাঁড়িয়ে থেকে অনেকেই পড়ছেন অসুস্থ হয়ে। কি আর করা, নৌকা রাইডে উঠবে সন্তানদের এমন বাইনার কথা চিন্তা করে শত কষ্টসাধ্যের মধ্যেও ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে এক একজন অভিভাবককে।

দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা একাধিক ব্যক্তির সাথে কথা হলে তারা জানান, এমন একটি জেলা শহরে বিনোদনের জন্য নেই আধুনিক একটি শিশু পার্ক। টিকেট হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা নাসরিন, পাপিয়া, শাহিনুর, সৌরভ, আবির, সুলতানা, মৌ সহ একাধিক দর্শনার্থী জানান, এই জেলায় এতো বড় বড় রাজনীতিবিদরা থাকতেও আদৌ এখানে ঘরে ওঠেনি আধুনিক একটি শিশু পার্ক। প্রতিবছরই ঈদ কিংবা বিভিন্ন উৎসবে এই সরকারি স্কুল মাঠের বিনোদন কেন্দ্রটিতে ভ্রমণ পিপাসুরা ঘুরতে এসে আধুনিক তেমন কোনো রাইড এর দেখা না পেয়ে চরম হতাশা নিয়ে এক একজনকে বাড়ি ফিরে যেতে হচ্ছে। স্থানে ঘুরতে আসা স্ত্রী সহ দুই পুত্র ও এক কন্যা সন্তানের বাবা সাখাওয়াত হোসেন জানান, বহু বছর আগ থেকে শুনেছি ভোলার পৌর কর্তৃপক্ষ এই স্থানে একটি আধুনিক পার্ক নির্মাণ করবেন। সেই অনুপাতে কিছুটা কাজ শুরু করলেও এখনো তা পরিপূর্ণতার মুখ দেখেনি। শিশুদের জন্য দুটি স্লিপার ও চারটি স্প্রিং ঘোরা সহ নামমাত্র কিছু রাইড স্থাপন করা হলেও পরিচর্যা ও সংস্কারের অভাবে তাও এখন জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি নৌকা রাইডটি স্থাপন করা হলেও এর সাথে আরো কিছু আধুনিক রাইট স্থাপন করলে তাতে করে আমরা আমাদের ছেলে সন্তানদের নিয়ে এখানে এসে কিছুটা হলেও আনন্দ পেতাম।

এদিকে বাৎসরিক পৌর করসহ সকল ধরনের ভ্যাট ট্যাক্স পরিশোধ করেও বিভিন্ন নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকার ক্ষোভ প্রকাশ করে পৌর এলাকার বাসিন্দারা বলেন, বহু বছর যাবত ভোলা পৌরসভা একটি প্রথম শ্রেণীর পৌরসভায় রূপান্তরিত হওয়া সত্ত্বেও এখনো পৌরবাসী বহু ধরনের নাগরিক সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। নেই বাচ্চাদের জন্য কোন ধরনের একটি বিনোদন কেন্দ্র, নেই আধুনিক একটি শিশু পার্ক, নেই কোন ধরনের ক্যাডেট স্কুল কলেজ, মেডিকেল কলেজসহ নেই দৃষ্টিনন্দন তেমন কোন স্থাপনা। তাই এখানকার অধিকাংশ গার্ডিয়ানই তাদের ছেলে সন্তানকে উচ্চ শিক্ষার জন্য ভোলার বাহিরে ঢাকা কিংবা বিভিন্ন জেলে পাঠিয়ে দেয়।

জেলার হিউম্যান রাইট ডিফেন্ডারস ফোরামের সভাপতি মোবাশ্বির উল্লাহ বলেন, বর্তমান সরকারের সময় দেশে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে যা মোটেও অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কিন্তু সেই তুলনায় ভোলাতে চোখে পড়ার মতো তেমন কোন উন্নয়ন হয়নি। আমরা চরম ব্যথিত ও মর্মাহত এই ভেবে যে, এতো বছরেও ভোলার পৌর এলাকায় একটি আধুনিক শিশু পার্ক গড়ে ওঠেনি, এখনো মানুষের বাসা বাড়িতে শতভাগ জ্বালানি হিসেবে গ্যাসের ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়নি। অথচ এখানকার এমপিসহ বিভিন্ন রাজনীতিবীদরা চাইলে নিজেদের অর্থায়নে একাধিক শিশু পার্ক গড়ে তোলা তাদের পক্ষে কোন বড় কিছু নয়। কিন্তু তারা তা না করে এক একজন আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হয়ে শুধুমাত্র বিদেশে টাকা পাচার করার মধ্য দিয়ে শুধুমাত্র নিজেদের আখেরই গোছাচ্ছেন।

যদিও পৌর কর্তৃপক্ষ ভোলা সরকারি স্কুল মাঠটিকে শিক্ষার্থীদের ক্রীড়া বিকাশের পাশাপাশি শারীরিক কসরত ও নানাবিধ এক্টিভিটিজ এর জন্য ২০১৫ সালের প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করেন। ওই প্রকল্পের আওতায় সখানে নির্মাণ করা হয় ভোলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও আধুনিক একটি ওয়াশ জোন। অর্থ সংকটের কারণে শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিভিন্ন ধরনের রাইভ স্থাপন সম্ভব হয়নি বলে জানান, ভোলা পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জসিম উদ্দিন আরজু। তিনি বলেন, ভোলার সরকারি স্কুল মাঠের বিনোদন কেন্দ্রটিকে আরো আধুনিকায়নের পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। একে একে খুব শীঘ্রই তা বাস্তবায়নের রূপ নিবে বলে জানান তিনি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

প্রযুক্তি সহায়তায়: বাংলাদেশ হোস্টিং
error: Content is protected !!