1. info@www.skytvnews24.com : Sky TV News 24 :
সোমবার, ২২ জুলাই ২০২৪, ১২:০৬ অপরাহ্ন

ভোলায় ধসে পড়েছে ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মানাধীন সুইমিংপুল

প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুলাই, ২০২৪
  • ৫২ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ নেই কোন ধরনের নাশকতা, নেই বড় ধরনের ভূমিকম্প। এরপরও আচমকা ধসে পড়লো প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন সুইমিংপুলের বিশাল একটি অংশ। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার (৬ জুলাই) বিকেল চারটার দিকে বাংলাদেশ যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অধীনে নির্মিত ভোলা শহরের সরকারি স্কুল মাঠ সংলগ্ন সুইমিংপুলে। সেন্টারিং এর কাজে স্টিল শাটারিংয়ের পরিবর্তে কাঠ ব্যবহার, স্টিলের বললি ব্যবহারের পরিবর্তে বাঁশের বললি ব্যবহারসহ বিভিন্ন ধরনের নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারসহ নানা অনিয়মের কারণে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করছেন স্থানীয়রা। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারসহ এ কাজে অনিয়মকারী সকলের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছেন বিজ্ঞ মহল।
ভোলা জেলাস্থ গজনবী স্টেডিয়ামের অধিকতর উন্নয়ন, ইনডোর স্টেডিয়াম এবং সুইমিংপুল নির্মাণ কাজের আওতায় ২০২১-২২ অর্থবছরে জিও বি প্রকল্পের মাধ্যমে যুবক ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৯ কোটি ৬৭.৭৮ লক্ষ টাকা ব্যয়ভার নির্ধারণের মধ্য দিয়ে টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কাজটি পায় রাশেদুজ্জামান টোটাল ইঞ্জিনিয়ারিং এসএ খান (জিবি) কনস্ট্রাকশন নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। যদিও এই কাজটি বিক্রি করে দিয়েছে চরফ্যাশনের পৌরসভার ইঞ্জিনিয়ার শামীম আহমেদের কাছে এমনটি বলা হচ্ছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে।
এরপর থেকে চরফ্যাশন পৌরসভার ইঞ্জিনিয়ার শামীম এর নিকটতম আত্মীয় ভোলা শহরের স্টেডিয়াম এলাকার বাসিন্দা শহীদ নামের এক ব্যক্তি নিজেকে এই কাজের ঠিকাদার দাবি করে কাজের তদারকি চালিয়ে যাচ্ছেন।

এদিকে সুইমিংপুল নির্মাণ কাজ শুরু হলে একে একে উঠে আসে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম। যেখানে প্রতিটি ঢালাইয়ে স্টিল শাটারিং ব্যবহার করার কথা থাকলেও এখানে দেখা গেছে ব্যবহার হচ্ছে রীতিমতো কাঠ দিয়ে সেন্টারিং। স্টিলের বললি ব্যবহারের স্থানে ব্যবহার হচ্ছে বাঁশের বললি। শুধু তাই নয়, ৩০ ফুট উঁচুতেও বাঁশের বলির মাধ্যমে নিচ থেকে ঠ্যাক দিয়ে কাঠের সেন্টারিং করে তার ওপর রীতিমতো ঢালের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এর বাইরেও রট, সিমেন্টসহ নি¤œমানের সামগ্রী ব্যবহারের মধ্য দিয়ে চলা সুইমিংপুলের কাজটি খুবই নিম্নমানের হওয়ায় ধসে পড়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

মাঠে ঘুরতে আসা পৌর এলাকার কালীবাড়ি রোডের বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, নির্মাণ কাজের নিচ দিয়েই সরকারি স্কুল মাঠের ওয়াকওয়ে হওয়া সত্ত্বেও নির্মাণ সাইটে নেই পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা। সবসময় পথচারীরা হাঁটাচলার কারণে যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। সেখানে হাঁটতে আসা সোলাইমান, শাহাবুদ্দিন, বিকাশ, নুরুন্নবী, লিটু সহ আরো অনেকে জানান, ঘটনাটি বিকেল চারটা থেকে সোয়াচারটার মধ্যে ঘটেছে। সে সময় আমরা মাঠে মাত্র হাঁটতে এসেছি। শব্দের অবাক করার বিষয় হচ্ছে ওই জায়গাতে কোন বেরিকেট দেওয়া ছিল না। ভাগ্য ভালো আশেপাশে তেমন কোন মানুষ না থাকায় কোন ধরনের হতাহত কিংবা প্রাণহানির মতো ঘটনা ঘটেনি। যদি পাঁচটার পরে ঘটনাটি ঘটতো হয়তো অনেক মানুষের প্রাণহানিও হতে পারতো। কেননা ওই জায়গা দিয়েই সব সময়ই মানুষ ব্যায়াম করতে এসে হাঁটাচলা করে।

এ ব্যাপারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রাশেদুজ্জামান -টোটাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর সাইটে দায়িত্বশীলদের সাথে কথা বললে তারা জানান, এরকম ঘটনার জন্য আমরা কিছুটা শঙ্কিত। কারণ নির্মাণ সময়ে ২০ জন শ্রমিক উপরে ওঠে কাজ করেছিলো। তখন কোন ধরনের দূর্ঘটনার লক্ষণও ছিলো না। কিন্তু ৩ ঘন্টা পর এমনটি কেনো হলো তার সদউত্তর দিতে পারেননি তারা। সেন্টারিং বাঁশ ব্যবহারের কারণ জানতে চাইলে বিষয়টি তারা এড়িয়ে গিয়ে এই প্রতিবেদককে বিভিন্নভাবে ম্যানেজের চেষ্টা করেন। এমনকি এক পর্যায়ে রিপোর্টটি না করার জন্য নানাভাবে হুমকি ধামকেও প্রদান করেন।

তবে প্রকাশ্য দিবালোকে এ ধরনের একটি ঘটনা ভোলার আপামর জনসাধারণকে ভাবিয়ে তুলেছে। প্রতিটি কাজে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ নজরদারি না থাকায় একের পর এক অনিয়ম দুর্নীতি হচ্ছে বলে মনে করছেন ভোলার সচেতন মহল।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

প্রযুক্তি সহায়তায়: বাংলাদেশ হোস্টিং
error: Content is protected !!