1. info@www.skytvnews24.com : Sky TV News 24 :
বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৪, ০৪:৪৭ অপরাহ্ন

একবছরেও উদঘাটন হয়নি রওশন আরা হত্যার রহস্য, খুনিদের বিচার চেয়ে মানববন্ধন

প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪
  • ১৫০ বার পড়া হয়েছে

এইচ এম জাকিরঃ এক বছর অতিবাহিত হলেও এখনো রওশন আরা’র হত্যা ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন হয়নি। এমনকি ঘটনা সাথে জড়িত প্রকৃত খুনিরাও এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। এ নিয়ে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে নিহত পরিবার সহ স্থানীয়দের মাঝে।

এদিকে ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনের পাশাপাশি প্রকৃত আসামিদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন, পথসভা ও জেলা প্রশাসকের বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছেন নিহত রওশনা আরা বেগমের ছেলে-মেয়ে আত্মীয়-স্বজন সহ এলাকাবাসী।

মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে দশটায় ভোলা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনের সড়কে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় মানববন্ধনের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে এর সাথে অংশ নেন জেলার হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডারস ফোরাম (এইচ.আর.ডি.এফ) এর নেতৃবৃন্দরা।

মানববন্ধনে অংশ নেয়া নিহতের পরিবারের স্বজনরা জানান, গেলো ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ সালের দিকে ভোলার লালমোহন উপজেলার কালমা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ফজলে করিম মেম্বার বাড়ির শাহজাহান মিয়ার স্ত্রী রওশন আরা নিখোঁজ হন। এরপর থেকেই তার আত্মীয়-স্বজন হতে আরম্ভ করে সর্বদিকেই খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান মিলেন।
অবশেষে ৬ দিন পর ২৮ ফেব্রুয়ারি বাড়ির সেফটি ট্যাংকের মধ্যে থেকে সন্ধান মিললো তাঁর মরদেহের। এরপর পুলিশ সেখান থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে দেখতে পায় আঠাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। ওইদিন রাতেই খুন হওয়া বৃদ্ধার ছেলে শিহাব উদ্দিন লালমোহন থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের নামে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তবে ঘটনার পর থেকে এখন পর্যন্ত পুলিশ হত্যাকাণ্ডের কোন ধরনের ক্লু উদঘাটন করতে পারেননি। এমনকি এই ঘটনায় জড়িত প্রকৃত আসামিদের সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

মানববন্ধনে দাঁড়িয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে খুনীদের বিচার চেয়েছেন নিহতের মেয়ে-ছেলেসহ এলাকাবাসী।

মায়ের খুনিদের শনাক্ত করে বিচারের দাবি চেয়ে ছেলে শিহাব উদ্দিন বলেন, ‘আমার মাকে কে বা কারা নির্মমভাবে হত্যা করেছে তা গত একবছরেও পুলিশ উদঘাটন করতে পারেনি। তাহলে কি আমার মায়ের খুনিরা পার পেয়ে যাবে? আমি কি আমার মায়ের খুনিদের দেখতে পাব না? আমি যদি আমার মায়ের খুনিদের দেখতে না পাই, সঠিক বিচার না পাই, তাহলে আমি মনে করব, এই দেশে কোনো বিচার নাই।

নিহত রওশন আরা বেগমের মেয়ে রুনু বেগম বলেন, ‘আমার মা একজন ভালো মানুষ ছিলেন। কে বা কারা কি কারণে আমার মাকে নির্মমভাবে হত্যা করে সেফটি ট্যাংকের মধ্যে ফেলে রেখেছে, তা আজও আমরা জানতে পারিনাই। আমরা জানি, আমার মায়ের সঙ্গে কারো কোনো বিবাদ নেই, তাহলে আমার মাকে হত্যা করলো কারা?

মানববন্ধনে অংশ নেয়া হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার ফোরামের ভোলা জেলা সভাপতি মোবাশ্বের উল্লাহ চৌধুরী বলেন, রওশন আরা হত্যার ঘটনা একবছর অতিবাহিত হলেও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখনো এই হত্যার কোনো রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি। আমরা যতটুকু জানি পুলিশ চাইলে খুনি যতই শক্তিশালী হোক না কেন তাকে আইনের কাঠগোড়ায় আনা পুলিশের জন্য মামলি বিষয়। কিন্তু এক বছর অতিবাহিত হলেও এখনো খুনিকে গ্রেফতার না করা পুলিশের জন্য বড় একটি ব্যর্থতার পরিচয় দেয়া।
এসময় তিনি আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে দাবি জানিয়ে বলেন, রওশন আরা হত্যার রহস্য উদঘাটন ও কলেজ শিক্ষার্থী রাব্বি হত্যার ঘটনায় জড়িত খুনিসহ দেশের সকল হত্যাকাণ্ডের বিচার ও এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

একই কথা বলেন মানববন্ধনে আশা ভোলার জনপ্রিয় পত্রিকা দৈনিক আজকের ভোলার সম্পাদক মোঃ শওকাত হোসেন বলেন, প্রত্যেকটি ঘটনার পরেই অপরাধীরা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হলেও আইনের ফাঁক দিয়ে খুব সহজেই তারা আবার বেরিয়ে যায়। এতে করে অপরাধীরা পুনরায় অপরাধ করতে তাদের মধ্যে কোন ধরনের সংকোচবোধ কাজ করে না। তাই এই সকল অপরাধীদের জন্য কঠিন থেকে কঠিনতর শাস্তি হলে তাতে করে যদি এ সমাজ থেকে অপরাধ কিছুটা হলেও দমন হয়।

এছাড়াও মানববন্ধন ও পথসভায় উপস্থিত ছিলেন, নিহতের ছেলে শিহাব উদ্দিন, মেয়ে রুনু বেগম, রিনা বেগম, সাজেদা বেগম, সালমা বেগম, বাবা শাহজাহান, রওশন আরা’র ভাই জসিম উদ্দিন, আবুল কালাম আজাদ, বোন মাসুদা বেগম, আয়শা, ফাতেমা, হাছিনা ও জীবননেছাসহ আরও অনেকে।

মানববন্ধন ও পথসভা শেষে নিহতের পরিবার জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে এই ঘটনার রহস্য উদঘাটনের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন।

এদিকে রওশন আরা’র মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) কাজল বলেন, রওশন আরা হত্যা ঘটনার পর নিহতের ছেলে শিহাব উদ্দিন বাদী হয়ে লালমোহন থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়ের হওয়ার দেড়মাস পর তিনি তদন্তের দায়িত্ব পান। তদন্তকালে এক নারীসহ পাঁচ ব্যক্তিকে সন্দেহজনকভাবে পুলিশ গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করেন। তাদের মধ্যে লালমোহন উপজেলা যুবদল সভাপতি কবির হাওলাদারও ছিলেন। বর্তমানে তাঁরা সবাই উচ্চ আদালত থেকে জামিনে আছেন। আসামিরা কেউই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়নি। তাদের দাবি ছিলো, রওশন আরা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাঁরা কেউই জড়িত নয়।

তদন্ত কর্মকর্তা আরও জানান, রওশন আরা হত্যার ঘটনাটি খুবই আলোচিত একটি ঘটনা। জেলা পুলিশ সুপার মাহিদুজ্জামানের নির্দেশে গেলো কয়েকদিন আগে এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের জন্য ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির প্রধান করা হয় ডিবির ইন্সপেক্টর মেজবাহ উদ্দিনকে। আশা করা যায় খুব দ্রুতই এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে।

তদন্ত কর্মকর্তা কাজল জানান, রওশন আরা হত্যার ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, অজ্ঞাতপরিচয় আসামিরা তাঁর মাথায় ভারী কোনো জিনিস দিয়ে আঘাত করেছে। তাঁর মাথা প্রায় ৪ ইঞ্চি পর্যন্ত ফেটে গেছে। মাথার খুলি ভেঙে ভিতরে ডুকে গেছে। এছাড়াও মরদেহের গলায় মারাত্মক আঘাত রয়েছে। দুর্বৃত্তরা তাঁর মাথায় আঘাত করার পাশাপাশি তাকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করার মতো আলামতও পাওয়া গেছে। তাকে হত্যার পর সেফটি ট্যাংকে লাশ ফেলে দেওয়ায় আসামিদেরকে ধরার মতো অনেক আলামত নষ্ট হয়ে গেছে।

এ ব্যাপারে ভোলা পুলিশ সুপার মো. মাহিদুজ্জামান বিপিএম জানান, কিছু কিছু হত্যার রহস্য উদঘাটনে বিলম্ব হয়। যাঁর নানান কারণ থাকে। রওশন আরা সহ একে একে ভোলায় হত্যা হওয়া সকল ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে মূল আসামিদেরকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করছে। দোষী ব্যক্তি যত বড়ই শক্তিশালী হোক না কেন আইনের কাছে কেউই রক্ষা পাবে না বলেও জানান তিনি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

প্রযুক্তি সহায়তায়: বাংলাদেশ হোস্টিং
error: Content is protected !!